গ্যাজেটসটেক নিউজ

Realme Watch Vs Amazfit Bip S – কোনটি কিনবেন?

প্রায় একই দামে যখন একই ক্যাটাগরির দুটো জিনিস পাওয়া যাচ্ছে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে কোনটি নেয়া উচিৎ হবে? আপনার এই প্রশ্নের সহজ সমাধান দিতেই আমরা উপস্থিত।

যেসব মিল রয়েছে Realme Watch ও Amazfit BIP S এর মধ্যেঃ

Realme Watch এবং Amazfit BIP S দুটোই বাজেট এন্ট্রি লেভেল এর স্মার্ট ব্যান্ড যা অনেকটা স্মার্ট ওয়াচ এর স্বাদ দিয়ে থাকে। দুটো ওয়াচেরই একই ধরনের আয়তক্ষেত্রাকার টাচ ডিসপ্লে রয়েছে যা অনেকটাই Apple Watch এর রেপ্লিকা বলা যায়। দুটোতেই রয়েছে ২০ মি.মি. এর স্টান্ডারট মানের রাবার বেল্ট।

এগুলোকে স্মার্ট ওয়াচ বলা হলেও আদতে এগুলো ফিটনেস ট্রাকার। এর মাধ্যমে আপনি নিজের বিভিন্ন ধরনের ফিটনেস বিষয়ক তথ্য দেখতে পারবেন। এই ব্যন্ড এর মাধ্যমে ফিটনেস এর বিভিন্ন তথ্য ট্রাক করে অ্যাপ এর মাধ্যমে আপনাকে স্মার্ট ফোনে দেখাবে। Amazfit BIP S ব্যবহার করছে Zepp নামের একটি অ্যাপ, অন্যদিকে Realme ব্যবহার করছে Realme Link নামের অ্যাপ।

যেসব পাথক্য রয়েছে Realme Watch ও Amazfit BIP S এর মধ্যেঃ

১। জিপিএস (GPS):

Amazfit BIP S এ রয়েছে ইন-বিল্ট ২৮ ন্যানো মিটার এর সনি ব্র্যান্ড এর জিপিএস। সুতরাং আপনি ব্যান্ড টি ঘরের এক কোনায় রেখে দিয়েও একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব ঘুরে আসলেও এই ব্যান্ড আপনার গতি ট্রাক করতে পারবে। এছাড়া জিপিএস ট্রাকার থাকলে সাধারন এর থেকে বেশ নির্ভুল তথ্য পাওয়া যায়।

অন্যদিকে Realme Watch এ ইন-বিল্ট কোনো জিপিএস ট্রাকার নেই। সুতরাং এটি আপানার ফোনের জিপিএস ব্যবহার করে আপনার দৌড়ানোর বা হাঁটার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে। আপনি যদি সেইসকল লোকদের মতো হয়ে থাকেন যারা জগিং এর সময় মোবাইল ফোন সাথে রাখতে পছন্দ করেন না, তাহলে এক্ষেত্রে আপনাকে Realme Watch হতাশ করবে। কারণ এটি ফোনের সাথে যুক্ত না থাকলে দূরত্ব পরিমাপ করতে পারেনা।

২। বেটার ডিসপ্লেঃ

Realme Watch ১.৪ ইঞ্চ এর কিছুটা sharp ও vibrant LCD ডিসপ্লে ব্যবহার করেছে। এর রেজ্যুলেশন হচ্ছে ৩২০x৩২০ পিক্সেল। অন্যদিকে Amazfit BIP S ১.২৮ ইঞ্চ এর কিছুটা ছোট্ট transflective ডিসপ্লে ব্যবহার করেছে। Transflective Display মূলত যখন যত বেশি আলো পাবে তখন আরও ততো বেশি উজ্বল দেখাবে। Amazfit BIP S এর ডিসপ্লে রেজ্যুলেশন হচ্ছে ১৭৬x১৭৬ পিক্সেল। সুতারং স্পষ্টতই Realme Watch এর ডিসপ্লে ঘরে – বাইরে সব দিকেই ভালো।

তবে, Amazfit BIP S এর ডিসপ্লে কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কারন, এতে রয়েছে Always On Display ফিচার যা Realme তে নেই। এছাড়া এই ডিসপ্লে আপনি যতই সূর্যের আলোতে নিয়ে যাবেন, এর কনটেন্ট ততোই উজ্বল দেখাবে।

৩। ব্যাটারি ব্যাকআপঃ

ডিসপ্লের পাশাপাশি ব্যাটারি ব্যাকআপ এর দিক দিয়েও এগিয়ে থাকছে Amazfit BIP S. কোম্পানিটি দাবি করছে, প্রতি ৩০ মিনিট পর পর হার্ট রেট মনিটর করার পরেও এটি একটানা ৪০ দিন পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। যদি আপনি একজন হেভি ইউজারও হয়ে থাকেন, তারপরেও আপনি পাবেন ১৫-২০ দিনের ব্যাটারি ব্যাকআপ।

অন্যদিকে Realme দাবী করেছে, তাদের প্রথম এই স্মার্ট ব্যান্ডটি ৭-৯ দিন ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। আর যদি আপনি হেভি ইউজার হয়ে থাকেন তাহলে ৪-৫ দিন ব্যাকআপ পাবেন।

চারজিং এর বেলায় Realme Watch ২ ঘন্টার মতো সময় নেয় ফুল চার্জ হতে যেখানে Amazfit BIP S সময় নেয় ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট এর মতো।

Realme Watch vs Amazfit BIP S - Which one should you buy?
Realme Watch vs Amazfit BIP S – Which one should you buy? – techhaunt.com

৪। আউটলুকঃ

এই ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকছে Realme Watch. ডিসপ্লেতে লক্ষ্য করলে দেখবেন এদের দুটিরই বেশ বড়সড় ব্যাজেল রয়েছে। কিন্তু Realme Watch এ কিছুটা গোলাকৃতি বিদ্যমান থাকায় এটি দেখতে বেশি প্রিমিয়াম লাগে। অন্যদিকে Amzfit BIP S পুরোপুরি Amazfit BIP এর পুনরাবৃত্তি।

সুতরাং, Realme Watch বেশ প্রিমিয়াম লুক দিচ্ছে Amazfit BIP S এর তুলনায়।

৫। সুইমিং মোডঃ

Realme Watch IP68 রেটিং যুক্ত হলেও এতে নেই Swimming Mode. অন্যদিকে BIP S 5ATM রেটিং এর সাথে রেখেছে সুইমিং ডিটেকশন। যদিও ATM একটি পুরনো রেটিং সিস্টেম যেখানে IP রেটিং দ্বারা ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট দুটোই পরিমাপ করা হয়। যাইহোক, এক্ষেত্রে আপনি দুটোকেই পানিরোধী হিসেবে ধরে নিতেই পারেন।

সুতরাং, আপনি যদি একজন সাঁতারু হয়ে থাকেন, সাঁতার পরিমাপ করাই আপনার লক্ষ্য হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই Amazfit BIP S কেনা যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত হবে।

৬। SpO2 Sensor:

Realme Watch এ পাচ্ছেন SpO2 সেন্সর। রক্ত প্রবাহের সময়ে অক্সিজেন এর পরিমাণ পরিমাপ করার জন্য এটি কাজে দেয়। কিন্তু এটি স্বয়ংক্রিয় ভাবে ডিটেক্ট করতে পারেনা, প্রতিবার আপানেকে নিজে থেকে ম্যানুয়ালি পরিমাপ করতে হবে।

৬। থার্ড পার্টি অ্যাপ সাপোর্টঃ

Amazfit BIP S প্রচুর থার্ড পার্টি অ্যাপ সাপোর্ট করে যেখানে Realme Watch করেনা। এই থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করে BIP S এ আরও অনেক ফিচার যুক্ত করা যায় যেমন ব্যান্ড দিয়েই ক্যামেরা কন্ট্রোল করা, মিউজিক কন্ট্রোল করা, ওয়াচ ফেস চেঞ্জ করা ইত্যাদি।

৭। ওয়াচ ফেস এর প্রাপ্যতাঃ

দুটি স্মার্ট ব্যান্ডই কাস্টম ওয়াচ ফেস সাপোর্ট করলেও, প্রাপ্যতার বিচারে বহুগুণ এগিয়ে আছে Amazfit BIP S. Realme Link App এ ৫০ টির বেশি ওয়াচ ফেস রয়েছে। অন্যদিকে Amazfit BIP এর Zepp App এর মধ্যে রয়েছে ১০০ এর অধিক ওয়াচ ফেস। এছাড়াও, Amazfit এর রয়েছে বিশাল কমিউনিটি। তারা বিভিন্ন থার্ড পার্টি ওয়েব সাইট, অ্যাপ এর মাধ্যমে কাস্টম ওয়াচ ফেস শেয়ার করে থাকে। এগুলো থেকে খুব সহজেই আপনি কাস্টম ওয়াচ ফেস নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। Amazfit BIP S এর জন্য প্রচুর ওয়াচ ফেস পাবেন এখানে।

৮। নটিফিকেশন ম্যানেজমেন্টঃ

দুটো ব্যান্ডই সরবোচ্চ ১০ টি নটিফিকেশন একসাথে দেখাতে পারে। কিন্তু নটিফিকেশন ম্যানেজমেন্ট এর বেলায় Realme কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। কারণ এতে কোনো নটিফিকেশন রিমুভ করতে গেলে Amazfit এর মতো স্লাইড করলেই রিমুভ হয়ে যায় না, ম্যানুয়ালী রিমুভ করতে হয়। তাছাড়া কিছুটা ল্যাগও করে এতে। তবে আশা করা যায় Realme তাদের আপডেট এর মাধ্যমে এই ইস্যু ঠিক করে দিবে।

শেষের কথাঃ

Realme Watch এর সাথে তুলনা করলে Amazfit BIP S পরিষ্কারভাবে জয়ী। ফিটনেস ট্রাক করা, ব্যাটারী ব্যাকআপ, ওয়াচ ফেস ইত্যাদি সব কিছুর দিক দিয়েই Amazfit অনেক এগিয়ে। আশা করা যায় Realme তাদের পরবর্তী রিলিজ গুলোতে আরও ভালো কিছু নিয়ে আসবে।

আরও পড়ুনঃ লঞ্চ হয়েছে Redmi Smart Band 5! যেসব নতুন ফিচার থাকছে এতে

Via
TechWiser

Shahriar Shawon

আমি মোঃ শাহরিয়ার শাওন, Tech Haunt এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। সবসময় নতুন কিছু শিখতে এবং শেখাতে পছন্দ করি। এই প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে আমাদের দেশের মানুষদের অনেক কিছু শেখাতে চাই, সহজে বুঝাতে চাই।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button